শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১০:০১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বানারীপাড়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে দূর্বার দূরন্ত গতিতে ছুটে চলছেন রাহাদ সুমন গলাচিপায় বৃদ্ধাকে মারধর হাসপাতালে ভর্তি থানায় অভিযোগ কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক তপন সাহার স্বরণ সভা ফ্রান্সে মহানবী (সাঃ) কে ব্যাঙ্গচিএ ও কার্টুন প্রকাশের প্রতিবাদে বিক্ষেভ মিছিল ছোট্ট আনিশার নদী ও চাঁদ মামাকে খুঁজে ফেরা কলাপাড়ায় যুবদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন বরগুনায় নারী ও কিশোরীদের মাঝে সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ উজিরপুরে প্রবীণ সার্ভেয়ারের মৃত্যুতে শোকসভা অনুষ্ঠিত আদালতের সামনে মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি! বাবুগঞ্জে জাতীয় যুব সংহতির ইউনিয়ন কর্মীসভা ও কমিটি গঠন
শীত মৌসুমে উপকূলে উঁচু টেকসই বাধঁ নির্মাণ করতে হবে

শীত মৌসুমে উপকূলে উঁচু টেকসই বাধঁ নির্মাণ করতে হবে

Print Friendly, PDF & Email
এম লোকমান হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক  :
আসন্ন শুকনো মৌসুমে টেকসই বাঁধ মেরামত করার জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করুন।
আজ ভার্চুয়াল সেমিনারে নীতি নির্ধারক এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধির অভিমত প্রকাশ করের বক্তারা।
আজ ১৭ অক্টোবর কোস্ট ট্রাস্ট ও স্থায়িত্বশীল গ্রামীণ জীবন-জীবিকার জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সেমিনারে দেশজুড়ে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় এবং  বন্যা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো আগামী শুকনো মৌসুমে মেরামতের জন্য জরুরি বরাদ্দের সুপারিশ করেন নীতি নির্ধারকগন এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিবৃন্দ। ‘শুকনো মৌসুমে বাঁধ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি বাজেট বরাদ্দ দাবি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমাদ, এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাব সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরী এবং সিএসআরএলের জিয়াউল হক মুক্তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোঃ তালুকদার আবদুল খালেক, জনাব আশেক উল্লাহ রফিক এমপি (কক্সবাজার-২), নুরুন্নবী চৌধুরী এমপি (ভোলা-৩), মোঃ মনোয়ার হোসেন চৌধুরী এমপি (গাইবান্ধা ৪), ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভু এমপি বরগুনা-২ ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি গাইবান্ধা-১
এছাড়াও কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, খুলনা, রংপুর, ভোলা এবং গাইবান্ধা জেলার চরফ্যাশনের কুকরি মুকরি ইউনিয়ন পরিষদ  চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন সহ আরও কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান সেমিনারে যোগ দেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় কোস্ট ট্রাস্টের আরিফ দেওয়ান উল্লেখ করেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং দীর্ঘমেয়াদী বন্যায় সারা দেশে প্রায় ৬শ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা।  ভবিষ্যতে এধরনের বিপর্যয় রোধে আসন্ন শুকনো মৌসুমে বেড়িবাঁধগুলোর জরুরি মেরামতের প্রয়োজন। প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের মাত্র ৩.০% অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা গেলে পাঁচ বছরের জলবায়ু পরিবর্তন সহনীয় বাঁধ নির্মাণের খরচ মেটানো সম্ভব। তিনি বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন, সেগুলো হলো: (১) আসন্ন শুকনো মৌসুমে বাঁধ নির্মাণের জন্য জরুরি বরাদ্দ হিসেবে কমপক্ষে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা উচিত, (২) দীর্ঘমেয়াদী বাঁধ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে (৩) তথাকথিত উপ-ঠিকাদারি ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে, এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।
ডাঃ কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে, কিন্তু অগ্রাধিকারগুলো চিহ্নিত করা হয়নি। অন্যান্য উন্নয়নের বিষয়গুলোর পাশাপাশি বাঁধ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসার জন্য আমাদের সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি প্রয়োজন। এটি একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে এবং এতে সমাধানগুলো স্থায়িত্বশীল হতে পারে।
সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, টেকসই বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার নীতিমালা না থাকায় প্রতিবছর বাঁধ মেরামত ও নির্মাণের নামে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন, এবং পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
জিয়াউল হক মুক্তা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিদেরকে বিপদাপন্ন অঞ্চল এবং জেলাসমূহে পদায়ন করতে হবে।  নদীভাঙ্গন ও বাঁধ ভাঙ্গার ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ আবশ্যক। শুকনো মৌসুমেই মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজগুলো বাস্তবায়ন করে ফেলতে হবে।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, সরকারকে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথকভাবে জাতীয় বরাদ্দ ঘোষণা করতে হবে। যাতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে হতে পারে, এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে থাকবে নির্মাণের জন্য বরাদ্দ অর্থ। এতে করে সময়মতো বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমবে।
তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, মূলত নদীতে পলী জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এই জলাবদ্ধতাকে বাড়িয়ে তুলছে। দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সরকারকে এদু’টি বিষয়কেই বিবেচনায় নিতে হবে। এক্ষেত্রে যথাযথ সুফল  নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় সরকারের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।
ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভু এমপি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আসন্ন শুকনো মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলি মেরামত করার জন্য বিশেষ আপদকালীন তহবিল সৃষ্টিরও সুপারিশ করেন।
মনোয়ার  হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে পলিবাহিত নদীগুলো নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে, বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যায় বিপুল সংখ্যক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণ এবং সম্পদ বাঁচাতে নদী খননের বিষয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যারিস্টার শামীম পাটোয়ারী এমপি বলেন, নদী ভাঙ্গন এবং দারিদ্রের কারণে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ৫০০০-৫০০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে । বর্তমান জাতীয় বাজেট অপ্রতুল, দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষা ও নদীভাঙন রোধের জন্য বিদেশি সহায়তাও বাড়ানো প্রয়োজন।
 আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপযুক্ত নকশা ও যথাযথ নির্মাণের অভাবে দক্ষিণ পুর্ব উপকূলীয় এলাকায়, বিশেষ করে কক্সবাজার জেলার জলাবদ্ধতা নিরসন হচ্ছে না, মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাটির ধরন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত বাঁধের নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণ করতে হবে।
এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, বঙ্গোপসাগরের মুখে অবস্থিত ভোলা জেলাকে বাঁচাতে, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর ও  টেকসই বাঁধের নকশা প্রণয়ন  তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

 174 total views,  2 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

add



© All rights reserved © 2014 barisalbani