২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শেবাচিমে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ৬ রোগীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে নারীসহ আরও অন্তত ৬ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে কিছু সময়ের ব্যবধানে তাদের মৃত্যু ঘটে। মৃতদের একজন প্রাণঘাতী করোনা আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের মৃত্যু হয়। এনিয়ে গত ২৮ মার্চ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত এ নিয়ে এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৯৪ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে ৩৪ জন কোভিড-১৯ রোগী ছিলেন। বাকি ৬০ জন মারা যান উপসর্গ নিয়ে।

হাসপাতালের ওই সূত্র জানায়- মারা যাওয়াদের চারজনই নারী। এবং ৬ জনের মধ্যে একজন কোভিড পজিটিভ ছিলেন। বাকি পাঁচজনের তিনজনের ফলাফল নেগেটিভ, দুজনের অপেক্ষমাণ আছে। তথ্যের সত্যতা হাসপাতালের পরিচালক মো. বাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

করোনা ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে- রোববার সকাল ৮টার দিকে মারা যান এক নারী (৪০)। বাকেরগঞ্জ উপজেলার ওই নারী করোনার উপসর্গ নিয়ে ২৫ জুন এই হাসপাতালের করোনার ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। শনিবার সকালে তিনি মারা যান। এর আগে তাঁর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল করোনা নেগেটিভ আসে।

একইদিন সকাল পৌঁনে ১০টার দিকে প্রায় দুই ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যান আরেক এক নারী (৬০)। বরিশাল নগরীর বাসিন্দা এই বৃদ্ধা করোনার উপসর্গ নিয়ে ২৬ জুন বিকেল সাড়ে চারটায় এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তির পর তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও ফলাফল এখনও আসেনি।

এর কিছুক্ষণ পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মারা যান আরেক নারী (৪৪)। তিনি করোনা পজিটিভ ছিলেন। বরিশাল নগরের এই বাসিন্দা ২৫ জুন সন্ধ্যা পৌঁনে সাতটায় এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

এর আগে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এই হাসপাতালে মারা যান এক যুবক (৩৫)। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ওই ব্যক্তি ২৫ জুন উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তির পর নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা নেগেটিভ ফল আসে। পরে রাত ১০টার দিকে মারা যান বরিশালের বাকেরগঞ্জের এক বৃদ্ধ (৭০)। তিনি ১৮ জুন এই হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের করোনা নেগেটিভ আসে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় এক বৃদ্ধা (৬২) মারা যান। তিনি পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলা শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ১৯ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

রোগী মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক মো. বাকির হোসেন বলেন, শেবাচিমে যেসব রোগী মারা যাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে অধিকাংশই সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় আসছে। ফলে তাদের অক্সিজেন দেওয়া হলেও ফুসফুস আর সক্রিয় না হওয়ায় পরিশেষে মৃত্যু হচ্ছে। তবে তুলনামুলক মৃত্যুর হার শেবাচিম হাসপাতালে কম, মন্তব্য করেন তিনি।’

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ