৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শোলক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুনের বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতৃবৃন্দ একাট্টা

উজিরপুর প্রতিনিধি :: বরিশালের উজিরপুরের শোলক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। তার বিরুদ্ধে রাজাকারের সন্তান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নেতাকর্মীর উপর নির্যাতন, রাতের চেয়ারম্যান, মাদকের মদতদাতা, স্বেচ্ছাচারিতা, ভূমিদস্যুতা, সুদখোরসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পুনরায় নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ অর্ধশত নেতৃবৃকর্মীর স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য, মহিলা সংরক্ষিত ৩২৮ আসনের সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- কাজী হুমায়ুন কবিরের পিতা মৃত: সোমেদ কাজী তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের চেয়ারম্যান থাকার সুবাধে তার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে প্রকাশ্যে কয়েকটি রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠন করা হয়। প্রথমে ওই অঞ্চলের শান্তি কমিটির আঞ্চলিক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে থানা পিস কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এ সময় ধামুরা, বরাকোঠা, শোলকসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তার নেতৃত্বে পাক হানাদার বাহিনীর মাধ্যমে নারকীয় তান্ডব চালায়। বহু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ ও গণহত্যা সংঘটিত হয়। সরকার ঘোষিত শীর্ষ রাজাকারদের তালিককায় তার পিতার নাম ৪২ নম্বরে অন্তভর্‚ক্ত রয়েছে। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী দেশে এসে রেডক্রোস জনসভায় স্বাধীনতা এবং দেশ ও গণ বিরোধী লোকদের তালিকা করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সেই ঘোষনা অনুযায়ী ১৯৭২ সালের ১৫ জানুয়ারী ধামুরা শহীদ মিনারের সামনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, লুটের শিকার ও নির্যাতিত ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান, আবুল কালাম, আব্দুল মালেক হাওলাদার, সামসুল আলম, আকবর আলী পাইক, কালী রঞ্জন শীল, আজিজ খলিফা, প্রফুল্ল কুমার ভট্টাচার্য, সোবাহান সরদার, রমেশ চন্দ্র কুন্ডু, মনিমোহনসহ কয়েকশত ব্যক্তি নিয়ে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারী ৮৬ জন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, লুটের শিকার ও নির্যাতিত ব্যবসায়ী এবং ২৩, ২৪, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারী নির্যাতন ও লুটের শিকার, প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুর রহমান, আবুল কালাম, আব্দুল মালেক, সামসুল আলম, আকবর পাইক, কালীরঞ্জন শীল, প্রফুল্ল ভট্টাচার্জ, রুহিদাস, রাখাল চন্দ্র বিশ্বাস, ইন্দ্র ভুষন, জিন্নাত আলী কবিরাজসহ মিলে রাজাকার এবং পিচ কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট সোমেদ কাজী ও জাহাঙ্গীর হোসেন সহ অনেক রাজাকার ও আলবদরের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক অভিযোগ পত্র তৎকালীন জাতীয় পরিষদ সদস্য আঃ রব সেরনিয়াবাদ, বরিশাল ডেপুটি কমিশনার, জেলা ও থানা মুজিব বাহিনীর প্রধান, বাংলাদেশ ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মৃত সোমেদ কাজীর ছেলে কাজী হুমায়ুন কবির বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রং পাল্টিয়ে কখনও বিএনপি, কখনও জাতীয় পার্টি, কখনও আওয়ামীলীগের সাথে আতাত করে তার ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছেন। হুমায়ুন কবিরের বড় ভাই নামে খ্যাত কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টুর সাথে রয়েছে তার গভীর সখ্যতা। ২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে সতন্ত্র প্রার্থির পক্ষে নির্বাচন করেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী এ্যাড: তালুকদার মোঃ ইউনুসের বিপক্ষে সতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা আক্তারের নির্বাচন করছেন।

১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে বিএনপির পক্ষে নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন এবং ওই সময়ে সবচেয়ে বড় শো-ডাউন তার নেতৃত্বে হয়েছে। এছাড়া জল্লা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নৌকার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু হত্যার ৪ নং আসামী তিনি। তার আপন বোনের দেবর জলিল সরদার হত্যা মামলার আসামীও তিনি হয়েছিলেন। এছাড়া সরকারি ধামুরা খাল দখল, খাস জমি দখল, অসংখ্য ভূমি দস্যুতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এব্যাপারে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। অভিযোগ পত্রে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ আরো অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন বাসীকে দুঃখ দিয়ে তিনি সবসময় ইউনিয়ন পরিষদ রাতে পরিচালনা করতেন। বিশেষ করে নারীরা বেশি লাঞ্চনার শিকার হতেন। তার নেতৃত্বে দলীয় নেতৃবৃন্দ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার ভাইয়ের ছেলেদের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ও নারী কেলেংকারীসহ বহু অভিযোগ।

জোর পূর্বক জমি দখল, ভূমি দস্যুতা, সরকারি খাল দখলসহ বহু অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ডাঃ আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান কুদ্দুস, উপজেলা মহিলা সভানেত্রী শেখ নাসিমা বেগম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বালী, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক কিরণ তালুকদার, বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদের সদস্য এ্যাডঃ মোর্শেদা পারভীন, যুবলীগ নেতা সাইদুর রহমান আলাল, মিজানুর রহমান বালী, সুমন, শাকিল তালুকদার, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি কালাম খান, মাহাবুব আলম জমাদ্দার, আনোয়ার হোসেন, জামাল আহম্মেদ মতিন, মনির তালুকদার, জালাল মোল্লা, রফিকুল ইসলামসহ সকল ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদক এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শুধুমাত্র ২নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন মিয়া, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সম্পাদক সাগর রায়, ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহজাহান বেপারী এই অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেননি।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ডাঃ আঃ হালিম ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান কুদ্দুস জানান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ কবির চেয়ারম্যানের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, খামখেয়ালীপনা, নেতাকর্মীদের উপর অসৌজন্যমূলক আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বেচ্ছায় সকলে অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। আগামীতে তাকে যেন মনোনয়ন না দেওয়া হয় এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সম্পাদক, সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ তালুকদার মোঃ ইউনুস জানান, নির্বাচন আসলে একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ গিয়াস উদ্দিন বেপারী অভিযোগের কোন কপি পাইনি বলে জানান। অভিযোগের ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান কাজী হুমাউন কবির অভিযোগের ব্যপারে তিনি কিছুই জানেনা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ