২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সিডরের পর এতো পানি দেখেনি উপকূলবাসী

কাওসার হামিদ , তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার তালতলীতে ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পরে এরকমের পানি আর দেখিনি উপকূলবাসী। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের ঘের, পুকুর, ঘরবাড়িসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে নিম্নাঞ্চলের।
টানা এক সপ্তাহের তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল এ জনপদ। এরই মধ্যে আবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আতঙ্ক। উপকূলবাসীরা বলেন, গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেনি অনেকেই এরই মধ্যে আবার সম্ভব বন্যার তাণ্ডবের নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।
বুধবার ২৬ মে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বরবগী ইউনিয়নের বাহির সাইট প্লাবিত হয়ে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য ঘর ছাড়ছেন নিম্নাঞ্চলের মানুষজন।
মালিপাড়া বাইর সাইট এলাকার ধান চাল ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর এত পানি দেখেননি তিনি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পানি বেড়ে গেছে। ঘরের চাল ছুঁই ছুঁই পানি উঠেছে। রান্নাঘরের চুলা সহ সবকিছু তলিয়ে গেছে নিরাপদ আশ্রয়ে মতিউর রহমানের ভাইয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে তাদের পরিবার।
মতিউর রহমানের মত এমন মালিপাড়া গ্রামের মোঃ ইউনুছ ও খলিলসহ অনেকেই বলেন, মালিপাড়া বাহির সাইড এলাকায় অন্তত ২০০ পরিবার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে তারা।
মালিপাড়া এলাকার মাছের ঘের মালিক মাসুম বিল্লাহ বলেন, প্রায় ২ লক্ষ টাকার মাছ ছিল তার ঘেরে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রুই মাছ, পাঙ্গাস মাছ ও চিত্রসহ সহ অন্তত ১০ প্রজাতির মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত শুকনো খাবার অথবা নিরাপদ পানি পায়নি তারা। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থদের এলাকায় পরিদর্শনের আসেনি জনপ্রতিনিধিরাও।
বড়বগী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বেপারীর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলো তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বরবগী ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান আলমগীর মিয়া দায়সারা উত্তর দিয়ে বলেন, মেম্বাররা এলাকা পরিদর্শন করেছে যে যে বলে জনপ্রতিনিধিরা আসে নাই তাদেরকে আমার কাছে ধরে নিয়ে আসেন।
তালতলী মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে ব্যাপক ক্ষতি আসংখ্যা করেছেন তিনি। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে পরিদর্শন করে দেখা গেছে আবদার বাইরের অধিকাংশ ঘের ও পুকুর ডুবে গেছে।
Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ