১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সিরাজগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ছাত্রলীগ নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সেলিম শিকদার, সিরাজগঃ-
সিরাজগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত জেলা ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক বিজয়ের অবস্থার অবনতি, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে,
প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত।
সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল হাজী কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি এনামুল হক বিজয় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে পুলিশী বাঁধা উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জ ও কামারখন্দ উপজেলায় পৃথক পৃথক স্থানে মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে।
গত ২৬ জুন শুক্রবার বিকেলে জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত প্রয়াত নেতা সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শোক সভায় যোগ দেয়ার জন্য আসার পথে শহরের বাজার ষ্টেশন প্লাটফরম এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত এনামুল হক বিজয়কে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও পরে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে শনিবার বিকেলে তাকে ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার মাথায় ধারালো অস্রদ্বারা একাধিক আঘাতের কারনে বড় ধরণের রক্তান্ত জখম হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহম্মেদ জানান, শহরের শহীদ এম, মনসুর আলী অডিটোরিয়ামে প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ নাসিমের স্মরণে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্যআসার পথে বাজার ষ্টেশন এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিয়ারধানগড়া গ্রামের জিহাদ ও অপর সাংগঠনিক সম্পাদক ভাঙ্গাবাড়ি মহল্লার আল আমিনসহ বেশ কয়েকজন মিলে এনামুল হক বিজয়কে কুপিয়ে এবং লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। দলে নিজেদের মধ্যে কোন্দল থাকতে পারে। কিন্তু এমনভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করা কোন ভাবেই কাম্যনয়, অপরাধ।
এ ঘটনায় আহত বিজয়ের বড় ভাই মো: রুবেল বাদী হয়ে শনিবার বিকেলে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ্যসহ ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবিব খোকা বলেন, ঘটনার পরে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আমাকেও মারপিটের জন্য দায়ী করা হয়েছে। দলের মধ্যে কোন কোন্দল নেই। তদন্তপূর্বক এ ঘটনার জন্য যারা দায়ী হবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদ বলেন, শক্রতা বসত: মারপিটের ঘটনায় আমাকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রকৃত পক্ষে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, জেলা ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে ছিলাম।
অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রলীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন বলেন, আমি বালুমহালে কাজ করি। কাজ শেষে প্রতিদিন রাতে বাড়ি যাই। ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে পুলিশী বাঁধা উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ কাঠালতলা ও কামারখন্দ উপজেলার বাগবাড়ি-পাইকোশা আঞ্চলিক সড়কে পৃথক ভাবে মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে।
কামারখন্দ উপজেলার বাগবাড়ি-পাইকোশা আঞ্চলিক সড়কে মানববন্ধনে অংশ নেয়া কামারখন্দ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য রাইসুল ইসলাম রিপন বলেন, প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ নাসিমের দোয়া মাহফিলে যাবার পথে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবিব খোকার সমর্থকরা ছাত্রনেতা বিজয়কে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে মারপিট করেছে।
এ হামলার প্রতিবাদে আমরা জামতৈল, কড্ডা ও এনডিপি অফিসের সামনে মানববন্ধন করার চেষ্টা করলেও পুলিশী বাঁধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় ২টি স্থানে আমরা সংক্ষিপ্ত ভাবে মানববন্ধন করেছি। তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবী করেন।
এ বিষয়ে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা মানববন্ধনে বাঁধা দেইনি।
যেসব স্থানে মানববন্ধন হওয়ার কথা ছিল, আইনশৃংখলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না হয়, সেই কারণে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে পুলিশ অবস্থান নিয়েছিল। মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সর্বশেষ