২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

স্ত্রী’র নাম ডিলার স্বাক্ষর জাল করে চাল বিক্রি করছেন স্বামী প্যানেল চেয়ারম্যান মজিবর

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার বেতাগীতে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার এর স্বাক্ষর জাল করেছেন বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবর রহমান খন্দকার। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা সবার মুখে মুখে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ এই শ্লোগান কে সামনে রেখে ২০১৬ সালে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় বরগুনা জেলার বেতাগীর ১ নম্বর বিবিচিনি ইউনিয়নে সূলভ মুল্যে ৬ শত মানুষের মাঝে ১০ টাকা কেজি ধরে চাল বিক্রি করা হয়। যা এখন ৮ শত ৮৫ জনের মাঝে বিতরণ করা হয়। ২০২১সালের ২১ শে জুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতার কারনে নিজের নামের ডিলার পরিবর্তন করে তাঁর স্ত্রী সীমা’র নামে ডিলার হস্তান্তর করেন মজিবর রহমান খন্দকার। কিন্তু সীমা নিজেই জানেন না যে তিনি খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির একজন ডিলার।

সরেজমিনে ডিসিরহাট বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ইউপি সদস্য মো. মজিবর রহমান খন্দকার নিজেই চাল বিক্রি করছেন স্ত্রী সীমার স্বাক্ষর জাল করে। এছাড়া তিনি নিজের এলাকার জনসাধারণের সাথে একাধিকবার দাম্ভিকতার সাথে বলেন, স্ত্রী’র স্বাক্ষর জাল করে চাল বিক্রি করছি। এটা আবার গোপন কি করে লাভ কি?

বিবিচিনি ইউনিয়নের ৪৩৭ জন ভুক্তভোগী খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ক্রেতাদের কাছ থেকে অনলাইন করার জন্য ১০০ টাকা ও কার্ডের জন্য ১০০ টাকা করে মোট ৮৭ হাজার ৪ শত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ডিলার ও ইউপি সদস্য মজিবর রহমান খন্দকার।

খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতা থেকে চাল নেওয়া প্রায় শতাধিক ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, বছরে প্রায় ৩ বার মোগো মত জনগণের কাছ থেকে কার্ডের জন্য ১০০ টাহা করে নিয়েছে মেম্বার মজিবর। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়াতে ভয়ে মোরা কিছু কইতে পারি না।

ডিলার এর বিষয় ইউপি সদস্য মো. মজিবর খন্দকার এর স্ত্রী সীমার কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোর স্বামী চাল বেচে হেইডা মুই জানি কিন্তু এর নিয়া যে এত কাউর তা তো মুই জানিনা কেন ভাই কি হইছে মোর স্বামীরে নিয়ে। ‘

ইউপি সদস্য মো. মজিবর রহমান খন্দকার বলেন, অনলাইন করার জন্য তো আর মুই টাকা নেইনি হেডা তো যেখান থেকে করছে তারা নিছে। আর কার্ডের জন্য যে টাকা নেওয়া হয় তার অফিসে বিভিন্ন খরচ এর জন্য দেওয়া হয়।’

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, এখন খাওয়া দাওয়ার টাইম খাওয়া দাওয়া করো এ বিষয় পরে কথা হবে। পরে তার সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি আর ফোন ধরেনি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন বলেন,’ আপনার মাধ্যমে তথ্য পেয়েছি, ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ