৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সাবেক অধ্যক্ষের পথেই হাঁটছেন নতুন অধ্যক্ষ এহতেসাম উল হক ?

বরিশাল বাণী : বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষের পদ থেকে অধ্যক্ষ সাহিদুর রহমান মজুমদার কে প্রত্যাহারের পরে নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে ১০ জুন ২০২১ তারিখ যোগদান করেন প্রফেসর মোঃ এহতেসাম উল হক। ১০ জুন ২০২১ তারিখ যোগদান করেই ১৬ জুন ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের ছয় লক্ষাধিক টাকা বিল ভাউচার এর মাধ্যমে উত্তোলন করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, বিল ভাউচার এর বেশির ভাগই অযৌক্তিক ও বানোয়াট। বিল ভাউচার গুলোতে দেখা গেছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতে পাঁচ হাজার, ইন্টারনেট বিল খাতে চল্লিশ হাজার, বইপত্র ও সাময়িকী ক্রয় খাতে দশ হাজার, কম্পিউটার সামগ্রী (মুদ্রণ ও মনোহারী) খাতে পঞ্চাশ হাজার, অন্যান্য মনিহারি খাতে আশি হাজার, পোশাক খাতে দশ হাজার, অনুষ্ঠান,উৎসবাদি খাতে পনের হাজার, কম্পিউটার মেরামত ও সংরক্ষণ খাতে বিশ হাজার, কম্পিউটার ও আনুষাঙ্গিক খাতে আট হাজার, শিক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ খাতে দশ হাজার টাকা ব্যায় দেখানো হয়েছে। করোনাকালে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের মধ্যে যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র পাঁচ দিনে এইসকল খাতে এই অর্থ ব্যয় করা সম্ভব না।  একাধিক কর্মচারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বা পোশাক খাতে তারা কোন টাকা পায়নি। যেহেতু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম গত প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ আছে সেহেতু শিক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ ও মুদ্রণ ও মনিহারি খাতে ৯০ হাজার টাকা ব্যায় হওয়ার কথা নয়।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে কম্পিউটার মেরামত হয়েছে এমন বিষয় কারো জানা নেই কিন্তু তারপরও কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যায় দেখানো হয়েছে ৭৮ হাজার টাকা। ইন্টারনেট বিল নামে যে ৪০ হাজার টাকার বিল দেখানো হয়েছে তা দেখলে যেকোন কারো চোখ কপালে উঠবে!

প্রতিষ্ঠানটিতে গত এক বছরেও কোন বই কেনা হয়েছে বলে শিক্ষক-কর্মচারীরা কেউ দেখেনি। প্রতিবেদকের কাছে এমন তথ্য শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন।

এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন ও ব্যয় সংক্রান্ত কমিটির আহবায়ক গণিত বিভাগের প্রভাষক মোঃ আবু মামুন জানান, অধ্যক্ষ মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি আপনার কিছু জানার থাকলে অধ্যক্ষ মহোদয়ের কাছে জিজ্ঞেস করতে পারেন। তাছাড়া এই রকম বিল ভাউচার করেই সরকারি অর্থ উত্তোলন করতে হয়, কিছু আগে খরচ হয় আর কিছু টাকা উত্তলোনের পরেও খরচ করা হয়। এ বিষয়ে আর কিছু জানার থাকলে অধ্যক্ষ মহোদয়ের সাথে কথা বলুন। কলেজে এসে সামনা সামনি কথা বলুন এ কথা বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে কলটি কেটে দেন।

এ বিষয়ে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এহতেসাম উল হক এর সাথে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করার জন্য একাধিক বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ব্যস্ত আছেন এই অজুহাতে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

 সুত্র জানায়, কেনাকাটার ভাউচার দেখলেই বুঝা যায় এগুলো ভুয়া বিল ভাউচার। এ ছাড়া একটি দোকানের ক্যাশমেমোই বেশী দেখা গেছে। সেই দোকানটি বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষকের পারিবারিক দোকান।

একাধিক অভিভাবক মন্তব্য করেছেন, বিষয়টি দুদক বা শিক্ষা মন্ত্রনালয় তদন্ত করলেই থলের বেড়াল বেড়িয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সাহিদুর রহমান মজুমদার এর বিরূদ্ধে বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্দেশনার আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদসদ্যের কমিটি তদন্ত শেষে তাকে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২২ এপ্রিল ২০২১ তারিখে অধ্যক্ষ সাহিদুর রহমান মজুমদার কে প্রত্যাহার করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ