২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ভোলায় কোস্ট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে জেলা পর্যায়ে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত 

ভোলা প্রতিনিধি।

প্রান্তিক কৃষকদের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় সহজ শর্তে কৃষিঋণ নিশ্চিত করুন প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমুল্যে সরাসরি ফসল ক্রয় করুন
প্রান্তিক কৃষকদের কাছথেকে ন্যায্যমুল্যে সরাসরি ফসল ক্রয় এই দাবী নিয়ে বুধবার ২৫ আগস্ট ২১ কোস্ট ফাউন্ডেশন এর জেলা নাগরিক ফোরাম ভোলা এর আয়োজনে কোস্ট ভোলা সেন্টারে সকাল ১০ ঘটিকায় স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি সেবার চাহিদার অংশ এবং সরবরাহ অংশের মধ্যকার পার্থক্য নিরসনে সেতু বন্ধন তৈরি করা ও সেবার মানবৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবন্ধকতাসমূহ উত্তরনের মাধ্যমে কৃষি সেবার মান উন্নয়নে নাগরিক সমাজের মতামতের ভিত্তিতে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় ।
 উক্ত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি জনাব মোঃ নূরুল ইসলাম। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আবু মো: এনায়েত উল্ল্যাহ ,উপ-পরিচালক,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,বিশেষ অতিথি ছিলেন মো:ফরিদুজ্জামান ভুইয়া ,সহকারি প্রকৌশলী-বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ রায় আপু জেলা নাগরিক ফোরাম এর সভাপতি আল-মামুন কোস্ট ফাউন্ডেশন সি ই পি আই প্রকল্প সমন্বয়কারি মো: ফজলুল হক । উক্ত জেলা নাগরিক সংলাপে ভোলা জেলার ১১ টি ইউনিয়ন হতে সামাজিক নিরীক্ষা দলের সদস্যবৃন্দ, উপজেলা নাগরিক ফোরামের সদস্যগণ সহ ইউনিয়ন নাগরিক ফোরামের প্রতিনিধিগণ মতামত পেশ করেন ।সভায় কোস্ট ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রকল্প সমন্বয়কারী -ফজলুল হক সভায় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মনিটরিং অফিসার মো:মনিরুজ্জামান সভা সঞ্চালনা করেন মো:ফজলুল হক।
 সভায় নাগরিক প্রতিনিধিগণ বলেন চলতি বছরে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার গত অর্থবছরের তুলনায় যে পরিমাণ বেড়েছে, সেই আনুপাতিক হারে কৃষি খাতে বরাদ্দ ও ভর্তুকি বাড়েনি। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৫ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। কিন্তু পরে তা সংশোধন করে কমিয়ে ১৪ হাজার ২১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে বাজেট পাস করা হয়েছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাাবিত বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সভায় ৩০ অক্টোবর, প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনের সূত্র অনুযায়ী শুধু মাত্র টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ভোলায় প্রায় ৫ হাজার ৮৭ হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর সবজি, ২৮৭ হেক্টর পান এবং ২ হাজার হেক্টর ধানি জমি রয়েছে। পর্যাপ্ত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি থামার এক সপ্তাহ পরেও এসব জমির পানি না নামার কারনে ফসলের গোড়া পচে গিয়ে কৃষকের মারান্তক ক্ষয়-ক্ষতি সাধিত হয় বলে উল্ল্যেখ করেন।
সভায় উপ-পরিচালক বলেন সরকার ১০০ প্রজাতির ধানের জাত উৎপাদন করেছেন,কৃষি বিভাগের সুপারিশে ভোলায় ২৫ কিলো মিটার বাাঁধ তৈরি হচ্ছে ।জলাবদ্বতা নিরসনে ড্রেনেজব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে ।জলবায়ুর সাথে খাপখাইয়ে টিকে থাকবে এ ধরনের ধানের বীজের নাম বলেন যেমন বিরি ৪২ ,বিরি-৫২,বিনা-১১ এ ধরনের ধান ৩ সপ্তাহের মত পানির নিচে থাকতে পারে ।
তিনি বলেন সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে ১৭ টি সেক্টরের অফিস রয়েছে এখানে কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তগণ সেবা প্রদান করবেন এটি সরকারের নির্দেশনা ।
কিন্তু অনেক বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগ ও নীতিমালা থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে কিছু কিছু পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার কারনে কৃষকের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে করা সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাগুলো যথাযথ বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বিভিন্নকারণে । প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের জন্য ব্যাংকের দুয়ারে হাঁটতে হাঁটতে ব্যর্থ হয় কিন্তু বর্গাচাষিদের দেখিয়ে ঋণ নিতে সক্ষম হয় সচ্ছল ব্যক্তি! অন্যদিকে সিন্ডিকেট এবং মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে প্রান্তিক কৃষকরা অসহায়। একটি কার্যকরী পণ্য বিপণন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় প্রতিবছর হাজার হাজার কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে নিঃস্ব হয়। ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে নিজ জমির কষ্টের ফসল আগুন দিয়ে জ্বালায় অভিমানী কৃষক!
আমাদের বিশ^াস, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও ত্রুটিমুক্ত প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা প্রণয়নকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করবে। মনিটরিং প্রক্রিয়াকে অধিকতর জোড়দার করা সেই সাথে প্রান্তিক চাষীদের স্বক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষনের আয়োজন করা ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিশ্বাষ করি, বরাদ্দকৃত সেবা যথাযথভাবে প্রকৃত কৃষকের দোড়গোরায় পৌছাতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ এক্ষেত্রে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার সফল ও ফলপ্রসূ বাস্তবায়নে সকল অংশীজনদের সমন্বয় এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিশেষ করে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারি, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং নাগরিকদের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি
নাগরিক সমাজের দাবী সমুহ:প্রান্তিক কৃষকদের মূলধনসংকট দূর করার জন্য কৃষকদের বিনা সুদে অথবা সহজ শর্তে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা।প্রান্তিক কৃষকের জন্য ভর্তুকি মূল্যে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরন করা এবং সঠিকভাবে বাধাহীন প্রাপ্তির ব্যবস্থা করা।
১. যে কোন ভর্তুকির সুফল যেন সরাসরি প্রান্তিক কৃষকরা পায়, সে জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূড় করতে কার্যকর পন্থা গ্রহন করা এবং প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।
২. সরজমিনে পরিদর্শন করে প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা, এবং কৃষি কাজে যুক্ত নয় এমন সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া।
৩. জনগনের অবগতি ও সুবিদার্ধে কৃষি সেবার সিটিজেন চার্টার নিশ্চিত করা ।
৪. ডিউটি রোস্টার নিশ্চিত করা এবং সেই অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত অফিসে কৃষি বিভাগের প্রতিনিধিদের অবস্থান করা ও মাঠ পরিদর্শন করা।
৫. সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার কৃষকদের কাছে পৌছানোর ব্যবস্থা করা, সার ডিলারদের বাধ্যতামূলকভাবে ক্যাশমেমো প্রদান এবং দর উম্মুক্ত করার ব্যবস্থা করা।
৬. সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নত করা, শুকনো মৌসুমে সেচ ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে ভরা
Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ