৭ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

মানবিকতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বরিশালের এসপি মারুফ হোসেন

বরিশাল বাণী: বরিশাল জেলা পুলিশের এসপি মোঃ মারুফ হোসেন এর মানবিকতায় পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পেলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা এ কে এম ইউসুফ আলী। দুই বছর যাবত চোখের সমস্যায় ভুগে শেষে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের সৈনিক বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম ইউসুফ আলী। দায়িত্ব পালন করছেন বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের। গত প্রায় দুই বছর চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে হারিয়ে ফেলেন চোখের আলো। চিকিৎসা করানোর মতো পরিস্থিতি তার ছিল না।

বরগুনার তৎকালীন মানবিক পুলিশ সুপার হিসেবে পরিচিত মোঃ মারুফ হোসেনের কাছে সহযোগিতার দাবি নিয়ে জান তারা। তিনিও স্বভাবসুলভ তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। দায়িত্ব নেন সকল চিকিৎসার। এর আগেও পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষের অপারেশনজনিত চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলীর চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তিনি। ডাক্তার জানান চোখের দৃষ্টি ফেরাতে তার অপারেশনের প্রয়োজন। অপারেশন আয়োজনের ব্যবস্থা করতে বলেন ডাক্তারকে। এরই মধ্যে মারুফ হোসেন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি হয়ে আসেন।

কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলীর অপারেশনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভোলেননি তিনি। সম্প্রতি তার চোখের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। অপারেশনজনিত কারণে তার ওষুধসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করেন এই পুলিশ সুপার। তার চোখের সানি অপারেশনের পাশাপাশি লেন্সও প্রতিস্থাপন করা হয়। আবারও চোখে পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখতে পেয়ে যারপরনাই খুশি মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী। দৃষ্টি ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞতার চোখ নিয়ে বৃহস্পতিবার (০৪ নভেম্বর) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বরিশালে ছুটে আসেন মানবিক পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনের কাছে। তাকে দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে যান তিনি।

কৃতজ্ঞতা জানান তার মানবিকতার জন্য। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলশ সুপার সুদিপ্ত সরকার। ইউসুফ আলীর সাথে থাকা ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না করাতে পেরে হতাশ হয়ে বাবার চোখের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ সুপার মারুফ স্যার আমাদের আশ^স্ত করেন। আমার বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তিনি। অবশেষে তার সহযোগিতায় তিনি আবারও পৃথিবীর আলো দেখতে পারছেন। শুধু তাই নয় অপারেশন-পরবর্তী চিকিৎসার জন্য তাদের নগদ অর্থও প্রদান করেছেন এই পুলিশ সুপার। মারুফ হোসেন বরগুনা পুলিশ সুপার থাকাকালীন এ রকম অনেক মুক্তিযোদ্ধার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এমনকি অপারেশনেরও ব্যবস্থা করেছেন বলে সাইফুল ইসলাম জানান।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানান, একজন মুক্তিযোদ্ধা যার ত্যাগের বিনিময় কি না দেশটা পেয়েছি, আর তিনি চিকিৎসার অভাবে চোখ হারাবেন এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের অপারেশন বর্তমান সরকার বিনামূল্যেই করে থাকে। তবে অপারেশনের আয়োজন থেকে শুরু করে চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ও অন্যান্য ব্যয়ের জোগান তিনি করে থাকেন। এটা দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও মূল্যবোধ থেকেই করেন বলে জানান পুলিশ সুপার।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ