৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ভোলায় অনলাইন মার্কেটিং ও কমিউনিটি মিনি ফেয়ার ২০২২ অনুষ্ঠিত নৌকা মুক্তির সোপান, দেশের মানুষকে মুক্তি দিয়েছে নৌকা নির্ধারিত সময়ের পাঁচ ঘন্টা আগেই শুরু হলো রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় পরিষদকে বরিশাল নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা শেখ হাসিনা সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় না এলে এদেশে কোন সম্প্রীতি থাকবে না আবারও এদেশে পাকিস্তানী পতাকা উ... জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হলেন বরিশালের মামুন-অর-রশিদ বরিশালে কর্মীদের জুতাপেটা করে শাসন করলেন ছাত্রলীগ নেতা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে পুনরায় পদ পেলেন বরিশালের দুই সাংবাদিক "টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ" ক্যাম্পাস জীবনের শেষ প্রান্তে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন

প্রিয় অভিভাবক,

আসসালামু আলাইকুম,

চলতি মাসের মধ্যে আপনার সন্তানের স্কুল ফাইন্যাল পরীক্ষা তাই না? নিশ্চয় সন্তানের শিক্ষা নিয়ে আপনি এখন খুব উদ্বিগ্ন সময় কাটাচ্ছেন। উদ্বিগ্ন না হয়ে, সন্তানের ভবিষ্যতের গতানুগতিক কথা না ভেবে ধীরস্থিরভাবে বাস্তব চিন্তা করুন। পুঁথিগত বিদ্যা ও গ্রেডের তোয়াক্কা না করে বাস্তবমুখী শিক্ষার কথা ভাবুন।

কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন কিভাবে বাস্তবমুখী শিক্ষায় সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা যায়?

ইউরোপে দেখেছি কোমলমতি শিশুদের সেখানে দশ বারটি সাবজেক্ট নেই, নেই বস্তার মতো ভারী স্কুল ব্যাগ, সেখানে নেই প্রথম দ্বিতীয় হবার কোন অসুস্থ প্রতিযোগিতা। সবাই খেলতে খেলতে সেখানে অক্ষর চেনে, গুনতে-লিখতে-পড়তে শেখে। শেখে নানা সৃজনশীল বিষয়। শেখে সততা ও নৈতিকতা।

সেখানে দলবেঁধে জঙ্গলে গিয়ে স্কুলের ছেলেরা নানা গাছ, ফুল, লতা-পাতার ছবি আঁকে, দিনে সময়ের সাথে সূর্যের খেলা দেখে, পুকুরে সাঁতার কাটা মাছ ধরা শেখে, শেখে নৌকা চালানো। তারা ঘোড়া দেখে এসে ঘোড়ার উপর রচনা লেখে, কেউ কাঠ কেটে বা পাথর ঘষে বানায় বিভিন্ন জিনিস, যাকে বলে শিল্পচর্চা। মজার এক্সপেরিমেন্ট করে আলো জ্বালায়, চুম্বক দিয়ে খেলনা-গাড়ি বানায়। এতে করে তারা কেউ পায় সৃষ্টির আনন্দ, কেউ পায় বৈজ্ঞানিক কৌশল ও আবিষ্কারের আনন্দ, কেটে যাচ্ছে তাদের লজ্জা, ভয়, শংকা, শিখছে নিয়মানুবর্তিতা।

বিভিন্ন খেলাধুলা ছাড়াও শিখছে গান, কবিতা-আবৃত্তি, গল্প বলা, ছবি আঁকা, ফটোগ্রাফি, অভিনয়, হচ্ছে প্রতিভার বিকাশ। সেলাই শিখে, বিস্কিট-পিজ্জা বেক করে শিখছে আত্মনির্ভরশীল হতে। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট কন্টেইনারে ফেলে শিখছে পরিচ্ছন্নতা। ছাত্র-শিক্ষক মিলে দাবা খেলে করছে বুদ্ধির চর্চা, যোগ-ব্যায়ামে শিখছে ধৈর্যশীল হতে। বাগান করে শিখছে গাছ লাগানো ও পরিবেশ পরিচর্যার উপায়।

সেখানে পড়াশুনার ভেতর গাদা গাদা মুখস্ত পড়া নেই। পাঁচটি বেসিক বিষয় নিয়ে পড়বে আর সেই পাঁচটি বেসিক বিষয় এমন ভাবে মনের গভীরে ঢুকিয়ে দেবে যে সারা জীবনেও সেটা যাতে ভুলে না যায়। বিষয়ের স্ট্যান্ডার্ড নমুনা স্বরূপ কাজ করে ! পাঁচটি বিষয়ের ভেতর হাজারো বিষয় এক সাথে জানা যায় ! শুধু অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বাকিটা দেখতে হয় !

সরকারি বা বেসরকারি, সব স্কুলেই মোটামুটি একই পাঠদান পদ্ধতি। জুতার ফিতা লাগানো থেকে শুরু করে সব কাজ নিজে করতে শেখানো, বাবা-মা কে বাসার কাজে সাহায্য করতে শেখানো, সবকিছুই এদের কাছে শিক্ষার মধ্যে পড়ে।

প্রতিটা বিষয়ের জন্য আলাদা কোচিং, গৃহশিক্ষক, নোটবই, গাইডবই এর বালাই নেই। সাইন্স না পেলে, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে না পারলে “বাড়িতে ভাত বন্ধ” – এই চাপ এদের নেই।

জাপানের স্কুল কলেজের পড়ালেখাও ইউরোপের মতোই বাস্তবমুখী। জাপানে প্রথম দেশব্যাপী পরীক্ষা হয় টুয়েলভ গ্রেডের সময়। এটাকে সেন্টার পরীক্ষা বলে। পরীক্ষা হয় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত, দুই দিনেই শেষ, শনি রবি দুই ছুটির দিনে। পুরা দেশব্যাপী একই সময়ে, একই প্রশ্নে। এত বড় পরীক্ষার জন্য, স্কুল কলেজে একটা দিনও ছুটি থাকেনা, দরকারও হয় না।

হতভাগা আমাদের দেশ। পরীক্ষা নেয়ার সিস্টেমটাও বড় বিরক্তিকর। মাসব্যাপী এস এস সি, এইচ এস সি পরীক্ষা। এত লম্বা সময়ের মধ্যে কেউ অসুস্থ হোয়ে পড়লে, পরীক্ষা শেষ করাটা তার জন্য কত ঝামেলার!!

জাপানের শিক্ষা সেশন এপ্রিল থেকে মার্চ। টুয়েলভ গ্রেডের গ্রাজুয়েশন সেরিমনি মার্চে হোলেও, সেন্টার পরীক্ষা হয় জানুয়ারির মাঝামাঝিতে।

এরপর ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা হয় ফেব্রুয়ারিতে, কোথাও কোথাও মার্চের প্রথম দিকে। মার্চের শেষের দিকে ভর্তি। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই ইউনিভার্সিটির ক্লাস শুরু হোয়ে যায়। এইভাবে প্রাইমারী স্কুল থেকে জুনিয়ার হাইস্কুল, সেখান থেকে হাইস্কুল/কলেজ, তারপর ইউনিভার্সিটি, কোথাও ভর্তি হওয়ার জন্য একটা দিনও গ্যাপ যায় না।

অনুগ্রহ করে কিছু বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন, আপনার সন্তানদের মধ্যে,
একজন শিল্পী আছে যার গণিত বোঝার দরকার নেই।

একজন উদ্যোক্তা আছে যে ইতিহাস বা সাহিত্যের তোয়াক্কা করে না।

একজন সুরকার আছে যে রসায়নে কোন গ্রেড পেল তা নিয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা নেই।

রয়েছে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব যার শারীরিক গঠন ঠিক রাখা স্কুলের পদার্থ বিদ্যা পড়ার চাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ন।

জীবন ও বাস্তবমুখী শিক্ষাই একটা জাতির উন্নত হবার প্রথম ও প্রধান শর্ত, মেরুদণ্ড শক্ত করে দাঁড়াবার একমাত্র হাতিয়ার। একটা বাচ্চা বড় হয়ে শুধু একটা ‘চাকরি’ করবে না, নিজের জীবনকে গড়বে, সমাজকে গড়বে, একটা জাতিকে নেতৃত্ব দিবে, তাই তাকে সবকিছুই শিখতে হবে হাতে-কলমে।

আগামী পরীক্ষায় আপনার সন্তান যদি সর্বোচ্চ গ্রেড পায়, খুব ভালো। আর যদি না পায়, অনুগ্রহ করে তার আত্মবিশ্বাসে আঘাত বা মর্যাদাহানীকর কিছু বলবেন না। তাকে বলুন, ঠিক আছে এইটি একটি পরীক্ষা মাত্র, জীবনের আরও অন্যান্য পরীক্ষা আছে সেই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে।

তাকে ভালোবাসুন, বিশ্বাস করুন এবং তাকে বিচার করতে যাবেন না। বিচার করলে ভুল করবেন। বিশ্বাস করুন সে আপনাকে নিরাশ করবে না। দেখবেন আপনার সেই সন্তানই একদিন বিশ্ব জয় করবে।

✒️লেখকঃ- জুবাইয়া বিন্তে কবির (জুবা), অর্থনীতিবিদ ও কলামিস্ট। 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ