২৮শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রাজাপুরের গালুয়ায় বৃদ্ধ স্বামী স্ত্রীকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা  বিতর্কিত শিক্ষা ব্যাবস্থা বাতিল ও পাঠ্যবই সংশোধনের দাবিতে মানব বন্ধন শিক্ষার গুরুত্ব কেবল আ’লীগ সরকারই দিচ্ছে-পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আওয়ামীলীগ ও কমিনিউটি পুলিশিং এর ওয়ার্ড সেক্রেটারী গ্রেফতার বরিশালে দুই নারীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ! বরিশালে ট্রলির নিচে পড়ে ইজিবাইকের চালক নিহত তালতলীতে ২৪টি পরিবারের খোলা আকাশের নীচে জীবনযাপন কলাপাড়া জম কালো আয়োজনে রিপোর্টার্স ক্লাব'র ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন। পবিত্র কোরআন শরিফ পোড়ানোর প্রতিবাদে তালতলীতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত বরিশালে পাংশা গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ১

বরিশালের নদীতে পাকিস্তানী সেনাদের জাহায ডুবিয়ে দেয়া হয়

বরিশাল বাণী: আজ ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বরিশাল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় মুক্ত হয় শহর। নগরীর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন মুক্তিসেনারা। সর্বত্র উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ মধ্য রাতে ঢাকায় অপারেশন সার্চলাইট শুরু করার পর বরিশালে মুক্তিযোদ্ধারা তৎকালীন পুলিশ সুপার ফখরুল ইসলামের কাছ থেকে অস্ত্রাগারের চাবি নেন। তারা পুলিশের অস্ত্রাগার থেকে শত শত রাইফেল গোলবারুদ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের পেশকারের বাড়ি নিয়ে যান। ২৬ মার্চ ভোরে ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার এমএ জলিলকে সাথে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বরিশালের সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম স্বাধীন বাংলা সচিবালয় গঠন করেন। ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল দীর্ঘ এক মাস মুক্তিযোদ্ধারা এই স্থান থেকেই অনেক অভিযান পরিচালনা করেন।
২৫ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী সড়ক-আকাশ ও নৌপথ থেকে একযোগে বরিশাল আক্রমণ করে। বরিশালে ঢোকার মুখে চরবাড়িয়া ও গৌরনদীর কটকস্থলে তারা বাধা পান। চরবাড়িয়ায় গণহত্যা চালিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষকে মেরে ফেলার পর পাকিস্তানি বাহিনী কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে বরিশালের পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে দক্ষিণাঞ্চলীয় হেড কোয়ার্টার গড়ে তোলেন। সেখানে বাংকার খুঁড়ে, ভারি অস্ত্রের সমাবেশ ঘটান তারা। প্রতিদিন বরিশাল, ঝালকাঠি, গৌরনদীসহ দূর-দূরান্ত থেকে নিরীহ মানুষদের ধরে এনে তারা গুলি করে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দিত। এই ওয়াপদা সংলগ্ন খাল ও ব্রিজে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে দুই থেকে তিন হাজার মানুষকে মেরে ফেলা হয়। ডিসেম্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ তীব্র হলে পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা চিন্তিত হয়ে পড়ে। ৭ ডিসেম্বর রাত থেকে শহরে জারি করা হয় অনির্দিষ্টকালের সান্ধ্য আইন। ৮ ডিসেম্বর সকালে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এক বৈঠকে মিলিত হয় তারা। শহরে কারফিউ চলাকালে সকাল ১০টায় বৈঠক শেষ করে পাকিস্তানি বাহিনী বরিশাল ছেড়ে নৌপথে পালানোর উদ্যোগ নেয়। খবর পেয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী পলায়নরত পাকিস্তানি বাহিনীর গানবোট, স্টিমার ও লঞ্চ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর স্থানীয় প্রধানসহ যোগী শাজাহান চৌধুরীসহ তাদের বহু দোসর নিহত হয়।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ