সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
চরফ্যাশন শহরের একমাত্র খাল দখল-দূষণে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা ঝালকাঠিতে বৌভাতের দাওয়াত খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি অর্ধশত নলছিটিতে বউভাত খেয়ে অসুস্থ দেড় শতাধিক পিরোজপুরে অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার কীর্তনখোলা নদীর পারের পাইলিং উচ্ছেদ বরিশালে বিনিয়োগে আগ্রহী কম্বোডিয়ান ব্যবসায়ীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল : এমপি পংকজ নাথ সিরাজগঞ্জে ডা: হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপির শুভজন্মদিন পালিত পিরোজপুরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদে মানববন্ধন বরিশাল বিভাগ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লোকমান- সম্পাদক মতিউর উজিরপুরের কালিহাতায় বেপরোয়া মাদক ব্যবসায়ীরা গৌরনদীতে স্বামীকে বেধড়ক কুপিয়ে জখম করলেন স্ত্রী! গৌরনদীতে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বরিশাল রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার নির্বাচিত হলেন মাহমুদ হাসান বরগুনায় সৌদিয়া পরিবহনের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত উজিরপুরে বেপরোয়া মাদক ব্যবসায়ী, জুয়াড়ি ও চোরচক্ররা বরিশালে ১ বছরে ২ শত ৪০ জন মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পন, ৯০ জনকে পূর্ণবাসন সিরাজগঞ্জে ১০ দিন যাবৎ বন্ধ লোকাল ট্রেন,যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে বরিশালে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার অভিযোগ বক্সে গোপনে তথ্য দেয়ার জন্য আগৈলঝাড়া পুলিশের মাইকিং
‘মুখে কাপড় গুঁজে ওসি গনি পাঠান ৩ বার ধর্ষণ করে’

‘মুখে কাপড় গুঁজে ওসি গনি পাঠান ৩ বার ধর্ষণ করে’

বরিশাল বাণী ডেক্স—

আটকের পর ডিউটি অফিসারের সহায়তায় তার ওপর ব্যাপক নির্যাতন করেন ওসি ওসমান গনি পাঠান। ঘটনার দিন রাত দেড়টার দিকে তাকে অপর একটি কক্ষে নিয়ে যান ডিউটি অফিসার। ওসি ওই কক্ষে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেন। এরপর মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে পরপর তিনবার তাকে ধর্ষণ করেন ওসি। ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করেন ওসি। ওসির পর তাকে ধর্ষণ করেন মুখে দাগওয়ালা ডিউটি অফিসার। এরপর বাকি তিনজন পুলিশ সদস্য আমাকে ধর্ষণ করেন। তারা সবাই ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন।

এসব অভিযোগের কথা উল্লেখ করে মামলা করেছেন খুলনার জিআরপি থানায় আটক হয়ে গণধর্ষণের শিকার হওয়া গৃহবধূ। শুক্রবার রাতে মামলাটি করা হয়।

এদিকে, গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পরও গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের একের পর এক হুমকি দিচ্ছে ধর্ষকরা। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

মামলার এজাহারে গৃহবধূ আরো উল্লেখ করেছেন, ধর্ষণের সময় তাকে মারপিট করা হয়। পরদিন শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে রোববার তাকে আদালতে আনা হয়। তখন আদালতে বিচারকের সামনে নেয়ার পর জিআরপি থানায় গণধর্ষণের বর্ণনা দেই তিনি। আদালতের বিচারক বক্তব্য শুনে তার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। সোমবার দুপুরে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করার জন্য আদালত থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়ার পর শুক্রবার তার মামলা নেয় পুলিশ।

এরই মধ্যে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে পাকশী রেলওয়ে এসপি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গত সোমবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটি।

এরই মধ্যে পুলিশ সদর দফতর থেকে গঠন করে দেয়া তদন্ত কমিটির প্রধান এসপি সেহেলা পারভীন ওই থানার পুলিশ সদস্য ও ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এখনো কিছুই জানায়নি এ তদন্ত কমিটি।

এর আগে এসপি সেহেলা পারভীন বলেছিলেন, গৃহবধূর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাকে কোথা থেকে কীভাবে আটক করা হয়েছিল, থানায় কি ঘটেছিল। সে বিষয়সহ আরো বেশকিছু বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে তার কাছে। ওই গৃহবধূ আমাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে ওই গৃহবধূ কি বলেছেন তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন এসপি সেহেলা পারভীন।

তবে এসপি সেহেলা পারভীন এও বলেছিলেন, ওই দিন রাতে থানায় যাদের ডিউটি ছিল তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে ব্রিফ করা হবে। তখন বিষয়টি জানতে পারবে সবাই।

এর আগে গত রোববার খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালতে দাঁড়িয়ে থানার ভেতরে আটকে পাঁচ পুলিশের গণধর্ষণের বর্ণনা দেন ওই গৃহবধূ। জিআরপি থানা পুলিশের ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য থানায় আটকে তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে বিচারককে জানান তিনি।

তার বর্ণনা শুনে আদালতের বিচারক ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে রোববার রাতে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও সময় স্বল্পতার কারণে তা হয়নি। ফলে সোমবার দুপুরে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

থানায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর বড় বোন বলেছেন, আমার বোনের শ্বশুরবাড়ি সিলেটে। আমার মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকায় দেখতে খুলনায় আসে বোন। বোন নিজে অসুস্থ থাকায় গত বৃহস্পতিবার যশোরে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিল। শুক্রবার যশোর থেকে আসার সময় ফুলতলা এলাকায় জিআরপি পুলিশ প্রথমে তাকে মোবাইল চুরির অপরাধে থানায় ধরে নিয়ে যায়।

শুক্রবার বিকেলে জিআরপি পুলিশ প্রথমে বলেছে আমার বোন মোবাইল চুরি করে ধরা পড়েছে। পরে জানায় তাকে ছাড়াতে এক লাখ টাকা লাগবে। টাকা না দিলে কি করে আদায় করা যায় তা নাকি পুলিশ জানে। পরে টাকা না দিয়ে থানা থেকে চলে আসি আমরা। আমরা থানা থেকে বের হয়ে আসার পর ওই দিন রাতে থানা হাজতে আমার বোনকে বিবস্ত্র করে ওড়না দিয়ে হাত-মুখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর ওসি ওসমান গনির নেতৃত্বে আরো চার পুলিশ আমার বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় তাকে মারপিটও করা হয়। পরদিন শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আমার বোনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

 

 

সূত্র০০০ মানবকন্ঠ

39 total views, 1 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2014 barisalbani
Design By Rana