অন্ধকারের মধ্যেই আলো খুজে পাই-চরফ্যাশনে জন্মান্ধ পরিবার

অন্ধকারের মধ্যেই আলো খুজে পাই-চরফ্যাশনে জন্মান্ধ পরিবার

অন্ধকারের মধ্যেই আলো খুজে পাই-চরফ্যাশনে জন্মান্ধ পরিবার

এম, লোকমান হোসেন, চরফ্যাশন।। 
জীবনে আলো দেখার বড় ইচ্ছে হয়। মনে হয় দুচোখ ভরে আলো জমিয়ে রাখি । কিন্তু নিয়তীর খেলায় হেরেছি প্রতিনিয়ত। এখন অন্ধকারের মধ্যেই আলো খুজে পাই। এখন আর আলো দেখতে ইচ্ছে করে না। কেননা বিধাতার লিখনতো মানতেই হবে। চোখছলছল চোখে এমন কথা বললেন জন্মান্ধ পরিবারের সদস্য আশাদ আলী দিদার।
যে বয়সে বই খাতা কলম নিয়ে শিক্ষা গ্রহণে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা সেই বয়স থেকে জীবিকার তাগিদে ও সমাজ একঘরে করে রাখায় ভিক্ষার জন্য হাত পেতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পযন্ত সময় কাটাচ্ছে বাস ষ্টান্ডে বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের কাছে। ভোলার চরফ্যাশনের আমিনাবাদ ইউনিয়নের হালিমাবাদ গ্রামের জন্মান্ধ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী একটি পরিবারের ১৫ সদস্য মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিভিন্ন বাসের ষ্টান্ডে ভিক্ষা বৃত্তি করে দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা । সমাজ তাদেরকে একঘরে করে রেখেছে বলে অভিযোগ ও করেন, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ, আতœীয়তা তাদের মধ্য ছাড়া আর কারো সাথে হয়না বলে জানিয়েছেন জামাল হোসেন। গ্রামবাসী তাদের সাথে কথাও বলেনা। স্বাধীনতা পরবর্তী কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসেননি বলে জানান অন্ধ পরিবারের সদস্যরা । সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ও কোনদিন তারা সুবিধা পাননি।
সরজমিনে গিয়ে কুড়ের ছাউনিতে বসবাসকারী পরিবারের সদস্য আশাদ আলী দিদার (৬০) খলিলুর রহমান (৬৫) জামাল হোসেন (৩২) মো. ফারুক (২৮) আওলাদ (১২) রাফসান (১২) রনি ( ৮) মেহেদি হাসান (৩) জিদান (৪) নুর জাহান (৫৫) পাইনুর বেগম( ২৩) বিবি সাজেদা (২৪) বিবি রহিমা (৪৭) সেফালী ( ৩০) সাহেরা খাতুন( ৩৮) জানান, আমাদেরকে সমাজ এক ঘরে করে রেখেছে । নিজেদের মধ্য ছাড়া বাহিরে বিবাহ পযন্ত হচ্ছেনা যার কারনে ধারাবাহিক ভাবে সবাই অন্ধ হিসেবে জন্ম গ্রহণ করছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ার কারনে কেউ তাদেরকে কোন কাজ পযর্ন্ত দিচ্ছে না। তারা আরো জানান অন্ধত্ব আমাদের ভাগ্যে লেখা তবুও আলো দেখতে ইচ্ছে করে।
সম্পাদনা- এম সাইফুল

624 total views, 3 views today

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.







© All rights reserved © 2017 Barisal Bani