বাউফলে যৌতুকের টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করল স্বামী!

বাউফলে যৌতুকের টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করল স্বামী!

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :: প্রেমের টানে প্রিয়াঙ্কা কর্মকার (২০) ঘর ছেড়ে দুই বছর আগে পালিয়ে বিয়ে করেছিল প্রেমিক তাপস হাওলাদারকে। কিছুদিন পর উভয় পক্ষের পরিবার তাদের বিয়ে মেনেও নিয়েছেন। শুরু হয় সুখের সংসার। কিন্তু মাস না যেতেই স্বামী তাপসের মনে জাগে যৌতুকের লালসা।

তাপস যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার ওপর, এক পর্যায়ে শুরু করে নির্যাতন। নির্যাতনের ভয়ে কিছুদিন দরিদ্র বাবার থেকে কিছু টাকা এনে দিলে ধীরে ধীরে টাকার চাহিদা বাড়তে থাকে তার। সম্প্রতি নিজে ব্যবসা করবে বলে ৫০হাজার যৌতুক দাবী করেন। গত মঙ্গলবার ওই টাকার জন্য গৃহবধূ প্রিয়াঙ্কাকে মারধরের পর মাথা ন্যাড়া করে হাত-পা বেধে ঘরে অভূক্ত অবস্থা আটকে রাখে।

পরে বুধবার দুপুরে ওই বাড়ির একজনের সহায়তায় পালিয়ে এসে ওই দিনই সন্ধ্যায় বাবা-মাকে সাথে নিয়ে থানায় এসে অভিযোগ করেন। এমনই ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। গৃহবধূ প্রিয়াঙ্কা কর্মকার উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজির হাট বন্দর এলাকার সুশিল কর্মকারের মেয়ে।

গৃহবধু প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর আগের উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাট এলাকায় প্রিয়লাল হালদারের ছেলে তাপস হালদারের সাথে তার বিয়ে হয়। স্বামী একটি বেসরকারী কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে চাকরী করেন। বিয়ের কিছু দিন না যেতেই স্বামী তাপস যৌতুকের জন্য চাপ শুরু করেন। এক পর্যায়ে শুরু হয় শাররিীক ও মানষিক নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেড়ে মাঝে মধ্যে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীকে টাকা এনে দিত। তার বাবা সুশিল চন্দ্র একজন নিন্ম আয়ের মানুষ। ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তার স্বামী তাপস চন্দ্র নেশা করে বাসা ফিরেন।

এসময় স্বামী ৫০হাজার টাকা তার বাবার কাছ থেকে নিয়ে আসতে বলে। টাকা আনতে অপরগতা করলে ক্ষুদ্ধ হয়ে স্বামী রশি দিয়ে তার হাত-পা বেধে ফেলে। এরপর মুখ বেধে রান্না ঘর থেকে বটি এনে মাথার পেছন থেকে চুল কেটে দেয়। পরে সেলুন থেকে কাচি এনে চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। এ অবস্থায় তাকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। পরে তার স্বামীর এক আত্মীয়র সহযোগিতায় দুপুর দুইটার দিকে প্রিয়াঙ্কা কালাইয়া বন্দরের বাসা থেকে পালিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দরে বাবার বাড়ি চলে যায়। প্রিয়াঙ্কা বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্তা।

এ ঘটনায় প্রিয়াঙ্কা বাদী হয়ে স্বামী তাপস, পরিমল, বিথি, লক্ষী ও হ্দয় নামের পাচঁজন কে আসামী করে বাউফল থানায় মামলা করেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এক নম্বর আসামী তাপস ও অপর আসামী তাপসের মা লক্ষী রানীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

312 total views, 3 views today

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.







© All rights reserved © 2017 Barisal Bani