আগামী প্রজন্ম কিভাবে জানবে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মকাহিনী ?

আগামী প্রজন্ম কিভাবে জানবে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মকাহিনী ?

বরিশাল বাণী:

একজন মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে কিভাবে সম্মান দেয়া হয় ? পতাকা দিয়ে মুড়ে, ভেপু বাজিয়ে স্যালুট জানিয়ে গুলি ছুড়ে ভাবগম্ভীর পরিবেশে, দেখতে খুব ভালো লাগে, ভালো লাগার সাথে ভীষন মন খারাপ হয়।এই যে আজকে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সাদেক হোসেন খোকা সন্মান দেওয়া হলো এই দৃশ্য আর খুব বেশদিন হয়তো দেখা যাবে না ? বড় জোর আর ১০ থেকে ১৫ বছর? একটা সময় এদেশে মুক্তিযোদ্ধা বলে কেউ বেঁচে থাকবে না? মুক্তিযোদ্ধার নিজ মুখের গল্প শোনার সৌভাগ্য কারও হবে না ?

আমার বাবা ১৯৬২ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সৈনিক [ন্যান্স নায়েক] এবং ১৯৭১ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা কর্মকতা ছিলেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাঁকে পদক প্রদান করে। “বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী” ১৯৭২ সালে বীর সেনাদের বীরত্বসূচক মরহুম নূরুল ইসলাম জোমাদ্দার এর পদক প্রদান করে ১৯৬৫ সালের পদক সমূহঃ তরগাই জং, মিতরাই ইবি,তমগা এ- জং, সিতরা এ- হরব। ১৯৭১ সালের পদক সমূহঃ বন তারকা,সমর পদক, মুক্তি তারকা,জয় পদক সংবিধান পদক জৈস্ঠতা পদক ।

তার কাছে থেকে শুনেছি- এটা আমার সৌভাগ্য ।কিন্তু আগামী প্রজন্ম কিভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধা শীতের রাতে কচুরি পানার মধ্যে নাক জাগিয়ে নিজের জীবনকে বাঁচাতে হয়েছে শত্রুর বুলেটের হাত থেকে, কিভাবে বাসের ২০ ঘণ্টার ভ্রমণ পায়ে হেঁটে নিজে ও জীবনসঙ্গীকে বাঁচাতে আমরণ সংগ্রাম করতে হয়েছে।কতটা শক্ত মনোবল হলে শত্রুর বুলেটের আঘাতে কলিকের মৃত্যুর আলিঙ্গন দেখতে হয়েছে।কতটা দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হয়েছে গোসল নেই, চুলে চিরুনি দেওয়ার সময় নেই, ভাত খেতে বসে পাকিস্তান বাহিনীর সাঁজোয়া ট্যাংকের শব্দে খাবার রেখে বন্দুক ধরে বেরিয়ে পরা। স্বদেশের মাটিতে শত্রু থেকে পালিয়ে বেঁচে থাকার কষ্টের বালুচর।

আমার ৯ বছর বয়সে বাবা এবং তার সঙ্গিদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনার আগ্রহ আমাকে বেশ গর্বিত করে। গ্রামের বাড়ি গেলেই আমার মা এর কাছে খুটিয়ে খুটিয়ে জানতে চাই। এক গল্প একাধিকবার শুনার ইচ্ছা এটা বাবা হিসাবে আর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে সত্যি- সন্মানের।

আগামী প্রজন্ম- হয়তো এই সরকারের নয়তো ঐ সরকারের সংস্কার করা মাইক বাজানো মুক্তিযোদ্ধার গল্প শুনে থাকবে রেষারেষির যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের JUST স্মরণ করবে বিশেষ দিনে-এটুকুই। স্বদেশ প্রেম ভুলন্ঠিত হবে। কিন্তু আফসোস একদিন আসবে যেদিন একজন মুক্তিযোদ্ধার ডাইরেক্ট মুখ থেকে গল্প কারো আর শোনা হয়ে উঠবে না বড়জোর আর ১০ বছর ১৫ বছর তারপর আর কোন মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে থাকবে না আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এদের মুখের গল্পগুলো থেকে যাওয়াটা খুব দরকার কোন কর্পোরেট চাইলে আস্তে আস্তে একটা আর্কাইভ রেডি করে রাখতে পারে । যেটা ট্রাষ্ট মি ১৫/২০ বছর পর টপ সেলিং একটা প্রোডাক্ট হবে আমি নিজেই তো এই সিডি কিনব আমার ছেলেমেয়ের জন্য… আমার ছেলেমেয়েরাও তো এই সিডি কিনবে তাদের নাতিদের জন্য…

আমার বাবা সহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।আল্লাহ্‌ যেনও সকল দেশপ্রেমে নিবেদিত মানুষগুলোকে জান্নাত দান করেন-আমীন রাব্বির হাম-হুমা কামা রাব্বা ইয়ানি ছাগিরা।

লেখক: মোঃ জাহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার,

অফিস সহকারী: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

1,353 total views, 3 views today

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.







© All rights reserved © 2017 Barisal Bani