শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
দুমকিতে শনাক্ত হলো বরিশাল বিভাগের প্রথম করোনা রোগী বরিশালে প্রথম ধরা পড়লো করোনা, ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা ব‌রিশালে এক এলাকা থে‌কে অন্য এলাকায় যাতায়াত নি‌ষিদ্ধ পাথরঘাটায় হাসপাতালে ভর্তির পর জ্বর-শ্বাসকষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু লাশ গোনা ছেড়ে দিয়েছি–নিউইয়র্ক তরুণী চরফ্যাশনে মহামারী করোনা সংক্রমণ এড়াতে ৪ বাড়ি লকডাউন ১৫ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছি, আজো খুঁজে ফিরি তাকে কাউখালীতে পাড়া মহল্লায় চলছে বাঁশের বেড়া দিয়ে লকডাউন সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ৬ টি ইউনিয়ন লকডাউন ঘোষনা ঝালকাঠিতে গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু মোংলা বন্দরের নতুন চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহজাহান রাজাপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা নাজিরপুরে চাল আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি সদস্য সহ ২ জনের কারাদন্ড ‘করোনা‘ : — সিবলু মোল্লা গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা মোকাবেলার পর্যাপ্ত উপকরণ নেই চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যখাতের প্রতি আমাদের সম্মান এবং বিশেষ মনযোগ দিতে হবে। রেজাউল করিম চৌধুরী বরিশালে রোগীর সেবা প্রদান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানালেন বিএমএ সভাপতি ৩২০ কিঃমিঃ বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে দৈত্যাকার গ্রহাণু বরিশালে ২৪১ জন কয়েদি ও হাজতীকে মুক্তির প্রস্তাব কুয়াকাটায় অসহায় গরীবদের পাশে যুবলীগ নেতা
বিজ্ঞানে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন কোপের্নিকাস

বিজ্ঞানে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন কোপের্নিকাস

আলম রায়হান ॥
বিজ্ঞানে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন বিজ্ঞানী নিকোলাউস কোপের্নিকাস। তিনি আবিস্কার করেন, সূর্যই সৌরজগতের কেন্দ্র। কোপের্নিকাসের জন্মদিন আজ। তিনি সর্বপ্রথম তিনি প্রমান করেন, পৃথিবী নয়, সৌরজগতের কেন্দ্র সূর্য। তিনি টলেমীর তত্তের ভিত্তিতে চাঁদের গতিপথের নির্দিষ্ট বিশ্লেষণ সম্পর্কে তার পর্যবেক্ষণ যাচাই করেন। ১৪৯৭ সালে ৯ মার্চ বলগ্নার আলেদবারনে একটি অলৌকিক ঘটনা লক্ষ্য করেন। সেটি হল চন্দ্র নক্ষত্রপুঞ্জের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। কোপের্নিকাস আঠারো শতকের আগে এমন একটি মডেল প্রনয়ন করেন যখন চারিদিকে সক্রেটিস এবং এরিস্টটলের মতবাদের জয়জয়কার। ১৪৭৩ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত এই জ্যোতির্বিজ্ঞানী। ৭০ বছর বয়সে ১৫৪৩ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন এই বিজ্ঞানী।
কোপের্নিকাসের ’দি রেভলিউসনিবাস অরবিয়াম কোয়েলেস্তিয়াম’ বইটি বিজ্ঞানের ইতিহাসের যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া কোপারনিকাস বিজ্ঞানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কোপারনিকাস একাধারে গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ, পদার্থবিদ, অনুবাদক, কূটনীতিক এবং অর্থনীতিবিদ ছিলেন। ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি একটি পরিমাণ তত্ত্ব বের করেন যাকে অর্থনীতির প্রধান ধারণা বলা হয়। এছাড়াও ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দের তিনি অর্থনীতির আর একটি সূত্র প্রদান করেন যা পরবর্তীতে গ্রিসমের সূত্র নামে পরিচিত। কোপের্নিকাসের বাবা কারাকোর একজন বণিক ছিলেন এবং তার মা ছিলেন তোরনের একজন ধনী বণিকের কন্যা। নিকোলাস চার ভাই বোনের মধ্যে সবার চেয়ে ছোট ছিলেন। কোপার্নিকাস কোন বিয়ে করেননি। তবে ১৫৩১ থেকে ১৫৩৯ সাল পর্যন্ত আনা সিলিং নামে এক গৃহকর্মীর সাথে তার সম্পর্ক ছিলো। তবে তাদের কোন সন্তান হয়নি।
কোপার্নিকাস ল্যাটিন ও জার্মান ভাষায় সমান দক্ষ ছিলেন। তিনি পোলিশ, গ্রীক এবং ইটালিয়ান ভাষাতেও কথা বলতে পারতেন। তবে তিনি কাজ করেছেন বেশিরভাগ ল্যাটিন ভাষায়। কারণ, তখনকারদিনে ইউরোপের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ল্যাটিন ভাষা ব্যবহৃত হত। এছাড়াও ল্যাটিন, রোমান ক্যাথলিক চার্চে ও পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় আদালতের প্রধান ভাষা ছিল। আর এভাবেই ল্যাটিন ভাষায় চার্চ এবং পোলিশ শাসকদের সাথে নিকোলাসের যোগাযোগ ছিল। কোপার্নিকাসের লিখা কিছু তথ্য প্রমাণ জার্মান ভাষায়ও আছে। এই বিষয়টি জার্মানির দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মার্টিন ক্যারিয়ার উল্লেখ করেন।
নিকোলাউস কোপের্নিকাস ১৪৯৬ খ্রিস্টাব্দের থেকে আইন শাস্ত্র পড়েন। তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৫০৩ সালে তিনি ২য় বারের মত ইতালিতে ফিরে আসেন এবং মানবিক বিভাগ নিয়ে পড়াালেখা শুরু করেন। তিনি সম্ভবত ফিলিপ বেরোওলজে, এন্টোনিও উরসও, কর্ডও, গিওভানি, গারজানি, আলোসান্দ্র অচিলিনের মত শিক্ষকদের বক্তব্য শুনতে শ্রেণীকক্ষে যেতেন এবং পাশাপাশি জ্যোতিবিদ্যাও পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি তখনকার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডোমেনিকা মারিয়া নভেরা দে ফেরেরার সাথে পরিচিত হন এবং তার সহকারী হিসাবে যোগদান করেন।
কোপার্নিকাস তার আদর্শ, চিন্তা-ভাবনা, কাজের একটি সারাংশ তৈরী করেন যা তার বন্ধুরা সহজেই পড়তে ও জ্ঞান অর্জন করতে পারে। ১৫১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই হেলিওসেন্ট্রিকের প্রাথমিক ধারণা দেন। এর মধ্যে ৭টি ধারণা ছিলো। তিনি পরবর্তিতে আরও কাজ করেন এবং তথ্য ও ডাটা সংগ্রহ করেন। ১৫৩২ খ্রিস্টাব্দের তিনি তার ‘দি রিভিউলিসানবাস ওরবিয়া কেলেসটিয়াম’ এর কাজ শেষ করেন। তার কাছের বন্ধুদের আপত্তি থাকা স্বত্তেও তিনি তার বইটি সবার জন্য উম্মুক্ত করতে চান। ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে জন আলবার্ট ইউডমান্সটার রোমে কোপার্নিকাস ত্বত্তের ধারাবাহিক বক্তব্য দেন। পোপ ক্লেমেন (সপ্তম) এবং ক্যাথোলিক কার্ডিনাল এতে খুশী হন এবং এই ত্বত্তের উপর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ফরেনসিক বিভাগের অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন দারিউক জাজদেন ফরেনসিক গবেষণাগারে মাথার খুলি, ভাঙ্গা নাক এসব পরীক্ষা করেন। এই অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন মাথার খুলি পরীক্ষা করে নিশ্চিতভাবে বলেন যে, এটি কোপার্নিকাসের কঙ্কাল কারণ এটি ৭০ বছর বয়সে মারা যাওয়া একটি কঙ্কাল। কোপার্নিকাসের কবরটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, তার কঙ্কালের কিছু অংশ পাওয়া যায়নি। তার হাড়ের ডিএনএ গবেষণা করে দেখা যায় এর সাথে কোপার্নিকাসের পুরো মিল। সেই নমুনাটি বর্তমানে সুইডেনের আপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে রাখা হয়েছে। ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ২২মে দ্বিতীয়বারের মতো কোপার্নিকাসের অন্তেস্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয় পোল্যান্ডে। তার কবর কালো গ্রানাইট পাথর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়ছে কোপার্নিকাস হেলিওসেন্ট্রিক ত্বত্তের জনক। তার কবরের পাশে কোপার্নিকাস মডেল, সূর্য ও ৬ টি গ্রহের প্রদর্শন করা হয়েছে।

লেখকঃ

আলম রায়হান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

 

সূত্র: দৈনিক দখিনের সময়

 439 total views,  1 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2014 barisalbani
Design By Rana