পল্লী বিদ্যুতের মিটার খুলে নেয়ার ১৫ বছর পর নতুন বিল ১,৮৫,৮৪১ টাকা

প্রকাশের তারিখ: জুলাই ৩০, ২০২২ | ৬:১৩ অপরাহ্ণ

হারুন অর শিদ. আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি॥
বরগুনার তালতলীতে সিডরে বিধ্বস্ত হওয়া পল্লী বিদ্যুতের মিটার অফিসে খুলে নেয়ার ১৫ বছর পরে নতুন করে ১লক্ষ ৮৫হাজার ৮৪১/= টাকা বিল করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, উপজেলার ছোট ভাইজোড়া গ্রামের বৃদ্ধা আদম আলী গ্রামের রাস্তার পশ্চিম সারিতে একটি মুদি দোকানীর ব্যবসা করত। সে দোকানে তার নামে একটি পল্লী বিদ্যুতের মিটার ছিল। যার হিসাব নাম্বার ৩৭৪-২২০৫। বার্ধক্য জনিত কারনে ২০০৬ সালের ১০নভেম্বর তিনি মৃত্যু বরণ করেন। ২০০৭ সালের ঘূর্নিঝড় সিডরে তার দোকান ঘরটি বিধ্বস্ত হওয়ায় ততকালীন পল্লী বিদ্যুতের লোকজন বিধ্বস্ত হওয়া মিটারটি অফিসে খুলে নিয়ে যায়। মিটার খুলে নেয়ার ১৫ বছর পর মৃত্যু ব্যক্তির পুত্র আনছার উদ্দিনের চলতি জুলাই-২০২২ মাসের বিদ্যুৎ বিলের সাথে তার পিতার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ১লক্ষ ৮৫হাজার ৮৪১/= টাকা যোগ করে দিয়াছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সরেজমিনে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্র জানায়, বৃদ্ধা আদম আলীর মৃত্যুর ২-৩ বছর পরে ২০১০সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত স্থানীয় এনায়েত করিমের পুত্র এনামুল করিম ওই দোকানের অদুরেই রাস্তার পূর্ব পাশের সারিতে অটো রিক্সা চার্জ দেয়ার একটি গ্যারেজের ব্যবসা করছিলো। এ সময় ওই এনামুল করিম বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহায়তায় আদম আলীর নামের ওই মিটারের স্থান পরিবর্তন করে রাস্তার পূর্ব পাশের খাম্বা থেকে সংযোগ নিয়ে অটো রিক্সা চার্জ দেয়ার গ্যারেজ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেনা পাওনায় জর্জরিত হয়ে ২০১৮ সাল থেকে এনামুল করিম এখন গাঁ ঢাকা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে বর্তমানেও তার ওই গ্যারেজ ঘরে বিদ্যুতের মিটারটি লাইনচ্যুত অবস্থায় লাগানো রয়েছে।

আনসার আলী বলেন, আমার বাবা ১৯৯৮সাল থেকে সৎ ছোট মাকে নিয়ে দোকান ঘরের পিছনেই আলাদা থাকতেন। আমরা তিনভাই আলাদা আলাদা সংসারে বসবাস করতাম। ২০০৬ সালের ১০নভেম্বর বাবা মারা যান। ২০০৭ সালে সিডরের বন্যা হওয়ার কারনে বাবার দোকানঘর ভাইঙ্গা যায়। এর কিছু দিন পরই বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে মিটারটি খুলে নিয়ে যায়। এখন অফিসে লোক কাকে মিটার দিছে আমি জানিনা। আমি ও আমার ভাইরা নিজ নিজ নামে মিটার এনে ব্যবহার করছি।

এনামুল করিমের কাছে জানতে চাইলে তার বাড়ীতে কেহকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ০১৭৪২২০০৩১১ নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

পল্লী বিদ্যুতের কলাপাড়া জোনোল অফিসের ডিজিএম সজিব পাল বলেন, আদম আলী মারা যাওয়ার কারণে তার নামের বিদ্যুৎ বিল ওয়ারিশ সূত্রে পুত্র আনছার উদ্দিনের নামে দেয়া হয়েছে।

© 2023 বরিশাল বাণী কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by Eclipse Web Host