১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি চাল বিক্রিতে অনিয়ম!

হারুন অর রশিদ,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
বরগুনার আমতলীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ১০ কেজি করে চাল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া এলাকার ভূক্তভোগীরা নারী- পুরুষরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড কলাগাছিয়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ১০ কেজি করে চাল বিক্রির জন্য মোঃ আবু জাফর মৃধাকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। শুরু থেকেই নানাবিধ অনিয়ম করে ওই ডিলার। ওজনে কম দেওয়া, নানা অযুহাতে উৎকোচের বিনিময়ে উপকার ভোগীর নাম পরিবর্তন করা, গোডাউন থেকে চাল আনা পরিবহন খরচ বাবদ উপকার ভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ টাকা করে আদায়। সর্বশেষ চাল বিতরণীর সুলভকার্ড নতুন বই করার জন্য উপকার ভোগীদের কাছ থেকে নগদ ২০০, ৩০০ ও ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। যারা এ টাকা দিতে অস্বীকার করে তাদের চাল না দিয়ে বলা হচ্ছে তালিকায় তোমাদের নাম নেই। উপকার ভোগীরা কেন নেই ডিলারের কাছে জানতে চাইলে তার কোন সদুত্তর তিনি দেয়নি। আবার অনেক উপকার ভোগীদের পূর্বে চাল দেওয়া হলেও এখন দিচ্ছে না।

অপরদিকে উপকারভোগী জাকির সুলভ কার্ড নং ৫৫৭, মোর্শেদা সুলভ কার্ড নং ৫৩৩, সোহাগ মোল্লা সুলভ কার্ড নং ৫৫৯, হালিমা সুলভ কার্ড নং ৪৬৬ এবং মামুন পিতা জব্বার মোল্লা ও খাদিজা স্বামী কামাল এর কার্ড গোপন করিয়া রেখে তাদের চাল দিচ্ছে না। এ সকল ভূক্তভোগীরা আজ (বৃহস্পতিবার) আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ কাওসার হোসেনের কাছে ডিলার জাফর মৃধার অনিয়মের প্রতিকার ও বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

ভূক্তভোগী জাকির সুলভ কার্ড নং ৫৫৭ বলেন, নতুন বইয়ের কথা বলে ডিলার জাফর মৃধা আমার কাছ থেকে নগদ ৫০০ টাকা নিয়েছে। কিন্তু আমাকে চাল দিচ্ছে না।

অপর ভূক্তভোগী মোর্শেদা সুলভ কার্ড নং ৫৩৩ বলেন, আমি নতুন বইয়ের জন্য ডিলারকে ২০০ টাকা দিয়েও চাল পাইনি।

ডিলার জাফর মৃধা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, আমি কোন উপকার ভোগীদের কাছ থেকে সূলভ কার্ড (নতুন বই) করার জন্য টাকা পয়সা নেইনি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সমীর কুমার রায় বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ১০ কেজি করে চাল বিক্রির ডিলারদের মৌখিকভাবে বলেছি ঢাকা থেকে সুলভ কার্ড (নতুন বই) আনার জন্য কিছু খরচ দেওয়ার জন্য। কিন্তু উপকার ভোগীদের কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নিতে বলিনি।

গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড.এইচএম মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ১০ কেজি করে চাল বিক্রিতে কলাগাছিয়া এলাকার ডিলারের অনিয়নের বিষয়ে একাধিক উপকারভোগী মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। সত্যতা প্রমাণিত হলে তার ডিলারশিপ বাতিলের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কাওসার হোসেন মুঠোফোনে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি চাল বিক্রিতে কোন অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুনঃ

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

সর্বশেষ